অনন্তকাল ধরে নারী খুঁজে চলেছে নিজেকে,
মেলে ধরতে চেয়েছে নিজের অস্তিত্বকে,
বোকা নারী নিজের অস্তিত্বের করছে সন্ধান,
এই জগত সংসারে তার কি আছে কোন দাম?
এই ধরনীতে পুরোটা জুড়েই আছে নারী,
কবির কল্পনার ক্যানভাসে নানা রূপে আছে তারা,
আছে কন্যা জায়া জননী রূপে এ বিশ্ব সংসারে,
কিন্তু তাদের অস্তিত্ব চাপা পড়েছে অতল আঁধারে,
নারীর আবার আলাদা অস্তিত্ব আছে নাকি!
এই নিজেকে খুঁজে বেড়ানো সবটাই ফাঁকি,
সব আমিত্ব চাপা পড়ে আছে যুগ যুগ ধরে,
কন্যা সন্তান জীবন্ত দাফন হয়েছে মাটিতে,
ধর্ষিত হয়েছে একাধিক বার নির্মমভাবে,
শিশুও পায়নি রেহাই এই নরপিশাচদের কাছে,
নিজস্ব বাড়ি নেই তার, নেই নিজের জন্য সময়!
সংসারের যাঁতা কলে ঘানি টেনে চলে,
কখনো নিযার্তিতা হয় যৌতুকের কারণে,
কখনো প্রতারিত হয় ভালোবাসার জনের কাছে,
কখনো বা সতীন সয়ে যায় মুখ বুঁজে হায়,
নিঃশব্দ রাতের ঝলমলে আকাশে তাকিয়ে,
চোখ বেয়ে ঝরে পড়ে অবাধ্য অশ্রু ধারা,
কেউ দেখে না তার নীরব কান্নাভেজা মুখ,
মাতাল স্বামী সুখে নিদ্রা যায় পাশেই,
কোনো পরোয়া নেই তার স্ত্রীর যন্ত্রণার
পরকীয়া করে স্বামী, ভাবে ভারি বাহাদুরি,
অব্যক্ত বেদনা হ্নদয়ে নিয়ে জীবন কাটায় নারী,
ছেলের মস্ত ফ্ল্যাটে ঠাঁই পায়না স্নেহময়ী মা,
শেষ ঠিকানা হয় যে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে,
তারপর যেতে হয় ব্যর্থতা নিয়ে মাটির ঘরে,
তবুও আমরা নারী, আমরা সব সহ্য করতে পারি।।