সন্ধ্যার আঁধার ঘনিয়ে এসেছে, তবু বাতি জ্বালায়নি মীরা- ঘর অন্ধকার করে শুয়েছিলো, ভীষণ অস্থির লাগছে- বেদনাময় তিক্ত অতীতকে শত চেষ্টায়ও ভুলতে না পারায় এবং নিজের দুর্ভাগ্যের কথা চিন্তা করে, চোখের অশ্রু জমে ধীরে ধীরে ঝরে পড়ছিলো।
-মা মাগো মা, কোথায় তুমি? হ্যাঁ, যা ভেবেছি, এই ভর সন্ধ্যায় আঁধারে শুয়ে আছো! বাতি জ্বালোনি কেন মা?
বলতে বলতে ঘরে ঢুকে বাতিটা জ্বেলে দিলো রিনি। মেয়ের গলার আওয়াজ পেয়েই চট করে চোখ মুখটা আঁচল দিয়ে মুছে নিয়ে হাসার চেষ্টা করতে করতে মীরা উঠে বসলো।
হাতের ব্যাগ টেবিলে রেখে মায়ের মুখোমুখি বসে তীক্ষ্ম চোখে তাকালো মেয়ে। কোচিং করতে গিয়েছিলো সে, এই ফিরলো- মীরার বেঁচে থাকার অবলম্বন, আশা- ভরসা- দুখিনী মায়ের একমাত্র সন্তান- রিনি।
মাকে সস্নেহে জড়িয়ে ধরে বিষন্ন সুরে বলে রিনি-
-কাঁদছিলে, তাই না? কেন মন খারাপ করো মা, আর কত কাঁদবে? আমি তো আছি, আমার দিকে চেয়েও তুমি সান্ত্বনা পাওনা? সব ভুলে যেতে পারো না? তোমার মন খারাপ থাকলে আমার যে কিচ্ছু ভালো লাগে না মা।
মায়ের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে ফেলে রিনি। মীরার চোখেও অশ্রু- মেয়েকে জড়িয়ে ধরে নীরবে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। মা- মেয়ে খানিকক্ষণ কান্নাকাটি করে হালকা হলো। মায়ের চোখের পানি মুছিয়ে জিজ্ঞেস করলো রিনি- বিকেলে চা টা খেয়েছো কিছু?
মাথা নাড়লো মীরা, খুব বিরক্ত হলো রিনি-
-দেখো কান্ড, খাবারের কথাটাও তোমাকে বলে দিতে হয়!
-তোর সাথে খাবো বলে অপেক্ষা করছিলাম।
-হ্যাঁ, শুয়ে শুয়ে তো কাঁদছিলে, এখন ওঠো তো, হাত মুখ ধুয়ে নাও, আমি কাপড় বদলে চা নিয়ে আসছি।
শোওয়ার ঘর সংলগ্ন ছোট্ট বারান্দায় বসার ব্যবস্থা আছে- সেখানেই নোনতা বিস্কুট, কাজুবাদাম, চানাচুর এবং চা ইত্যাদি নিয়ে এলো রিনি- মেয়ে চা খুব ভালো বানায়, চায়ে চুমুক দিয়ে মা খানিক প্রশংসা করলো, যথারীতি মেয়ে লজ্জা পেয়ে মন্তব্য করলো- তোমার কাছে থেকেই তো শিখেছি, সুতরাং ভালো হবে না??
আরো টুকটাক কথার পর মীরা আনমনে বললো-
-ফ্ল্যাটটা খুবই সুন্দর, একেবারে মনের মত, এলাকাটাও পছন্দসই ।
কয়েকটা বাদাম মুখে দিয়ে একটু চিবিয়ে নিয়ে রিনি বললো- কিন্তু দামটা বেশী চাইছে, আমাদের বাজেটের বাইরে, সাধ্যের অতিরিক্ত ।
মায়ের মলিন, বিষন্ন মুখটার দিকে চেয়ে রিনির কষ্টে বুকটা টনটন করে উঠলো কিন্তু মুখে হাসিখুশির ভাব এনে বললো- চিন্তা কোরো না মা, আজকাল কত রকমের ফ্ল্যাট তৈরী হচ্ছে, খুঁজলে ওটার চাইতেও সুন্দর একটা পেয়ে যাবো, ঢাকা শহরে আবার ফ্ল্যাটের অভাব?
রিনির কথায় অশান্ত মন সুস্থির হয়, সান্ত্বনার প্রলেপ লাগে দেহ মনে- মেয়েটা আমার কত লক্ষ্মী, মাকে কি সুন্দর বুঝালো- মনের কথা প্রকাশ না করে বললো- যা মা, তুই পড়তে বস, আমি ভাতটা বসিয়ে দেই,
-তুমি কষ্ট করবে কেন, বসো, আমি যাচ্ছি,
-সেটি হবে না, তুমি পড়তে বোসো।
-আচ্ছা মা, যে রাঁধে- সে চুলও বাঁধে, এই কথাটা তো তুমিও জানো, তাই না?
-হ্যাঁ তো, কি হলো তাতে?
মীরার কন্ঠে সন্দেহের সুর-
-কি হলো মানে! ভাত রান্না করলে পড়াশোনা করা যায় না?
রাগ করতে যেয়ে হেসে ফেললো মীরা-
-আহারে আমার দাদী শাশুড়ি, যেটা বলেছি, ভালো মানুষের মত শুনবি, আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি
-না না যাচ্ছি পড়তে, রাগ কোরো না সোনা মা,
মীরার গালে চুমু দিয়ে পড়তে বসে গেলো রিনি।
হাসিমুখে রান্নাঘরে ঢুকলো মীরা, মনটা হালকা লাগছে।
রিনি পড়তে বসলো ঠিকই কিন্তু বার বার মায়ের ক্লান্ত- ক্লিষ্ট মুখটা মনের পর্দায় ভেসে উঠতে লাগলো- মা যখনই বেদনার সায়রে ডুবে যন্ত্রণা পেতে থাকে- রিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে মজার কথা বলে, হাসি রসিকতায় মাকে ভুলিয়ে রাখতে। সামনে বই নিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে ভাবতে লাগলো রিনি- মা- মেয়ের সংসার, নিজেরাই মিলেমিশে ঘরের কাজ করে, ছুটা বুয়া কাপড় ধুয়ে- ঘর মুছে, প্রয়োজনে মশলা বেটে দিয়ে যায়। রিনিকে মা রান্না করতে দেয় না, জোর করে যেটুকু পারে করে রিনি নইলে মীরাই রান্না করে, আর দুজন মানুষের রান্না- কতটুকু আর।
সামনেই রিনির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা- সেজন্যই সহজে কোনো কাজ করতে দেয় না মা।
রান্না ঘরে তখন ভাত বসিয়েছে মীরা চুলায়, রাতে শুধু ভাতই রান্না করতে হয়, দিনে রাঁধা তরকারি থাকে, সেটা শুধু গরম করে মা মেয়ে খেয়ে নেয়।
পরীক্ষার জন্য রিনিকে কিছুই করতে দিতে চায় না মীরা, এই নিয়ে রিনি রাগ করলেও সে কর্ণপাত করে না- ফুটন্ত ভাতের পানে চেয়ে আবার কষ্ট পায় মীরা- ফ্যানের বাষ্প ওর বুকের গভীরে জমা হয়ে আঘাত করতে থাকে।
রিনিকে যে অনেক বড় হতে হবে- কঠিন জীবন সংগ্রামে সফলতা অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সব দুঃখ বেদনাকে জয় করবে রিনি- তবেই মীরার সব যন্ত্রণার অবসান- দীর্ঘদিনের কষ্ট সার্থক হবে- বড় আশা, বড় স্বপ্ন মেয়েকে নিয়ে- সেভাবেই তিল তিল করে রিনিকে তৈরী করেছে মীরা- রিনিকে জয়ী দেখার বাসনা হ্নদয়ে লালন করে চলেছে দাম্পত্য জীবনে পরাজিত মীরা।
মীরার সাথে স্বামী আবিদ চৌধুরীর ডিভোর্স হয়েছে আজ আট বছর হলো, রিনির বয়স তখন দশ। অনেক আগে থেকেই স্বামীর সাথে মীরার স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিলো না। এক সাথে এক ছাদের নীচে থাকতো, ওই পযর্ন্তই। ভিন্ন মন- মানসিকতার, নিষ্ঠুর হ্নদয়হীন মানুষটার সাথে তার কখনো মনের মিল হয়নি- সম্ভবই ছিলো না।
একমাত্র সন্তান মীরাকে মা বাবা, ছেলেকে পছন্দ করেই বিয়ে দিয়েছিলেন- সুপুরুষ, নম্র, ভদ্র, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আবিদের ভেতরের পশুটাকে তাঁরা চিনতে পারেননি, সুপাত্র মনে করে, জানের টুকরো মেয়েকে তুলে দেন বিবেকহীন, দুশ্চরিত্র এক অমানুষের হাতে- অবশ্য জামাইয়ের স্বরূপ- মেয়ের অশান্তি বেশীদিন তাঁদের দেখতে হয়নি- আকস্মিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মা দুজনেই মারা যান- এই পৃথিবীতে মীরা একেবারে একা হয়ে যায়।
তাঁদের হারিয়ে স্বামীকে আঁকড়ে সান্ত্বনা পেতে চেয়েছে মীরা কিন্তু আবিদ স্ত্রীকে সহানুভূতি, সহযোগিতা করার পরিবর্তে অনেক দুরে সরে গেছে।
মূলত রিনি পেটে আসার পরপরই স্ত্রীর প্রতি সমস্ত আর্কষণ হারিয়ে ফেলে সে, উপরন্তু অত্যন্ত নির্মম ব্যবহার করতো আবিদ মীরার সাথে।
দৈহিক সম্পর্ক ছাড়া স্ত্রীর মন বোঝার প্রয়োজন বোধ করেনি কখনো, সে চেষ্টাও তার ছিলো না।
অন্য নারী ও মদে আসক্ত লম্পট আবিদ- মীরাকে সংসার সামলানো ও স্বামীর সেবা- যত্ন করা ছাড়া আর কোনো ভূমিকায় দেখতে চায়নি।
দিন দিন আবিদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েছে- সময় অসময় নেই, বন্ধু- বান্ধবদের দাওয়াত দিয়ে বিভিন্ন পদ রান্নার ফরমায়েশ করতো, সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত মীরা হয়তো উন্মুখ হয়ে থাকতো ঘুমাবার জন্য- সে সময়ে নেশাগ্রস্ত আবিদ স্ত্রীকে আদেশ করতো- শরীর টিপে দিতে, অল্পক্ষণ টিপলে হোতো না, যতক্ষণ বেহুশ হয়ে ঘুমিয়ে না পড়বে ততক্ষণ- শ্রান্ত মীরাকে টিপে যেতেই হোতো- স্বামীর সেবা করতে স্ত্রীর আপত্তি হওয়ার কথা নয় কিন্তু যেখানে ভালোবাসা নেই, মায়া মমতাহীন এই ব্যবহার তো চরম নিষ্ঠুরতার পর্যায়েই পড়ে। প্রতিবাদ করার সাহস ছিলো না মীরার- শত অন্যায় পীড়নের। মীরার হয়ে কেউ বলার ছিলো না তাই জুলুমটাও বেশী মাত্রায় হোতো।
গর্ভকালীন অবস্থায়ও স্বামীর কত অন্যায় আবদার সয়েছে মীরা, টু শব্দ করেনি- নীরবে চোখের পানি মুছেছে আর যন্ত্রের মত অমানুষটার আদেশ পালন করে গেছে। সুন্দরী যুবতী নারীর পদে পদে বিপদ, বিশেষ করে একা অসহায় রমনী- তাই অনেক সময় আবিদের ব্যবহার অসহ্য হওয়ায় এই দোজখ থেকে চলে যেতে চেয়েও পারেনি- কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে? ওর যে কোথাও কেউ নেই।
বিপদের সময় চেনা জনও অচেনা হয়ে যায় তাছাড়া পেটে সন্তান নিয়ে কার দুয়ারে ঘুরবে?তাই স্বামীর ঘর থেকে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েও সাহস করেনি।
সেই বিপর্যস্ত সময়ে, বাবার যা সহায় সম্পত্তি ছিলো, আবিদের অগোচরে বাবারই এক সৎ বিশ্বস্ত বন্ধু আলীম সাহেবের সহায়তায় বিক্রি করে টাকাটা ব্যাঙ্কে ডিপোজিট করে রাখে, এই একটাই বুদ্ধির কাজ সে করতে পেরেছিলো।
কাজটা খুব সহজ ছিলো না- ধুরন্ধর স্বামীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে এটা করা সম্ভব হোতো না যদি না আলীম সাহেব আন্তরিক সহযোগিতা করতেন। তিনি মীরার অসুখী জীবনের কথা সবই জানতেন কিন্তু এই উপকার করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি, মীরাকে তিনি সান্ত্বনা দিয়েছিলেন শুধু।
ব্যাঙ্কের দরকারি কাগজপত্র মীরার হাতে তুলে দিয়ে বলেছিলেন- মা, আমি তোকে আমার কাছে রাখতে পারতাম কিন্তু তোর চাচী মেনে নিতো না, সে অন্য রকম মানুষ, তুই একদিনও শান্তিতে থাকতে পারবি না, তোর অবস্থা হোতো গরম তেলের কড়াই থেকে আগুনে ঝাপ দেওয়া, স্বামীর ঘরই মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, ধৈর্য্য ধরে সহ্য করে থাক, সব ঠিক হয়ে যাবে, আল্লাহ্ ভরসা।
স্বামীর ঘর- মীরা চোখে পানি নিয়ে করুণ হেসেছিলো, স্বামীই তো তার আপন নয়, তবে কিসের ঘর? কেমন ঘর?
পরবর্তীতে আবিদ নানা অত্যাচার করেও শ্বশুরের সম্পত্তির হদিস বের করতে পারেনি- মীরা আগাগোড়া একটা কথাই বলে গেছে- আমি কিছু জানিনা।
আবিদ হয়তো আরও কঠোর হতে পারতো কিন্তু পেটের বাচ্চার কথা চিন্তা করে পিছিয়ে গেছে- না মীরা বা সন্তানের জন্য মায়া করে নয়- যদি হিতে বিপরীত হয়, মারধর সহ্য করতে না পেরে মরেটরে গেলে সে আর এক ফ্যাসাদ, হাঙ্গামা হয়ে যাবে, মীরা অত্যাচারী স্বামীর হাত থেকে সাময়িক পরিত্রান পেলো ঠিকই কিন্তু অন্যান্য যন্ত্রণা কমলো না।
গর্ভবতী হওয়ার পর প্রতি মাসে রুটিন চেকআপের জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া নিয়ে মীরা কত মিনতি করেছে- ওগো, আমাকে একটু গাড়িতে করে নিয়ে যাবে? রিকশার ঝাঁকুনিতে আমার খুব কষ্ট হয়,
বিদ্রূপের হাসি হেসে আবিদ বলেছে- তাই নাকি! গাড়ি ছাড়া চলতে পারো না? তা আমার তো সময় হবে না বেবী, তুমি কষ্ট করে রিকশাতেই যাও, তবু হাল ছাড়েনি মীরা, জানে পাষাণ গলবে না, বলেছে- একদিনও কি নিয়ে যেতে পারো না?
-না, পারিনা, কোথা কার নবাব নন্দিনী তুমি? তাছাড়া আমার ড্রাইভার নেই জানো, বউকে ডাক্তারের কাছে আনা নেওয়া করার ইচ্ছে নেই, আমি বউয়ের ভেড়া নই যে তু করলেই ছুটে আসবো।
-এভাবে কথা বলতে তোমার একটুও খারাপ লাগে না? বাচ্চাটা তো তোমারও।
ব্যস আগুনে জলের ছিটে পড়লো, তেড়ে এসে কষে এক চড় মারলো মীরার গালে- সাহস বেশী হয়েছে না? তর্ক করছিস? জাহান্নামে যা তুই আর তোর বাচ্চা, আমি পারবো না বলেছি, পারবো না।
হনহন করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে পাষন্ড।
পিছনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে মীরা, চোখে পানি নেই, শুকিয়ে গেছে।
নিজের অদৃষ্টকে মেনে নিয়ে নিরীহ মীরা চুপ হয়ে গেছে। স্বামীর মুখের ওপর প্রথম এটুকু কথা বলতে পেরেছে, আর কতদিন নিয়তির এই নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে হবে- জানে না।
দিন, মাস একটা একটা করে কেটে গেছে- প্রসব বেদনা উঠেছে মীরার, যন্ত্রণায় কাতর, ঘামে ভিজে গেছে শরীর, আবিদ মাত্রই বাসায় ফিরেছে, মীরার অবস্থা দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো- আর সময় পেলে না, ভেবেছিলাম বেশ জমিয়ে মোগলাই পরোটা খাবো, তা নয় এখন দৌঁড়াও শালার বউকে নিয়ে, কতক্ষণ লাগবে পরোটা বানাতে? দাও খেয়েই যাচ্ছি- বেজার মুখ আবিদের।
বিস্মিত বা অবাক হতে অনেক আগেই ভুলে গেছে মীরা স্বামীর ব্যবহারে, নিস্তেজ স্বরে জানালো যে বাসায় ময়দা নেই।
ভবী ভুলবার নয়, দোকান থেকে ময়দা কিনে এনে স্ত্রীকে দিয়ে মোগলাই বানিয়ে খেয়ে তবেই বান্দা গেছে নার্সিং হোমে। যন্ত্রণা কাতর মীরার জন্য এতটুকু মায়া অনুভব করেনি।
মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যঙ্গ করে বলা হয়- কই মাছের জান বা বিড়ালের প্রাণ- সহজে মরে না- সেজন্যই মীরা শত অত্যাচারিত হয়েও টিকে গেছে- এবং ওর একটা মেয়ে হয়েছে এবং সুস্থ স্বাভাবিক- হয়তো মেয়ে সন্তান বলেই।
ফুটফুটে বাচ্চাটাকে বুকে চেপে অঝোরে কেঁদেছে মীরা, কারণ- মেয়েকে এক নজর দেখা তো দুরের কথা লেবার রুমের বাইরে থেকে আবিদ কটু মন্তব্য করেছে- আবার মেয়ে! একজনকে নিয়েই জ্বলছি-
নার্সরা অবাক হয়ে গেছে কথা শুনে- হয়তো বিশ্বাস করেনি, বাপ হয়ে এমন করে বলতে পারে!
অবাস্তব, অবিশ্বাস্য হলেও- এমনই নিষ্ঠুর নির্মম ছিলো আবিদ, তাসের ঘরের মত ভাঙন ধরেছিলো মীরার দাম্পত্য জীবনে ।।
চলবে-