পদ্মপাতায় জল (পর্ব- ৩ ): নাজনীন রহমান

মীরার আর স্বামীর সংসার করা সম্ভব হয়নি।

একদিন, রিনির তখন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিলো, সন্ধ্যায় মেয়েকে পড়তে বসিয়ে মীরা টুকটাক কাজ করছিলো, এমন সময় আবিদ এলো, এসময় কখনো সে বাসায় আসেনা, শংকিত হলো মীরা, মেয়ে বড় হয়েছে- বয়সের তুলনায় অনেক কিছুই বোঝে, বাপের মদ খেয়ে ঝামেলা করা নিত্যই দেখছে, মুখে বলে না কিছু, কিন্তু নিশ্চুপ হয়ে ঘরে বসে থাকে, মায়ের সাথে বাবা  চেঁচামেচি করে যখন, বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে নীরবে কাঁদতে থাকে।

মেয়ের পরীক্ষার সময় অবাঞ্চিত কোন পরিস্থিতি হয়, ভেবে দিশেহারা বোধ করে মীরা। ওকে অবাক করে দিয়ে আবিদ গম্ভীর মুখে মীরাকে বলে-

-আমার ঘরে এসো, দরকারি কথা আছে।

মীরা চমকে যায়- ওতো মদ খেয়ে আসেনি!  তার ওপর ভালো ভাবে ডাকলো- বুকটা কেঁপে উঠলো, কি কথা বলবে ভেবে ইতস্তত করতে লাগলো, ঘরের মধ্যে থেকে হুংকার দিয়ে উঠলো আবিদ-  কি হলো, ডাকলাম যে, কানে কথা যায়নি?

দেরী না করে রিনির কাছে এসে দেখে পড়া বন্ধ করে মুখ শুকিয়ে বসে আছে মেয়ে, মাকে দেখে বললো-  কি হয়েছে মা?

-কিছু হয়নি, তুমি পড়ো, তোমার বাবা ডাকছে শুনে আসি।

দ্রুত বেরিয়ে এসে দরজা ভিড়িয়ে দিয়ে আবিদের ঘরে এসে দাঁড়ায় মীরা, দাঁত মুখ খিঁচিয়ে ওঠে আবিদ- তোর সাথে পিরিতির কথা বলতে ডাকিনি, এত দেরী করলি কেন আসতে?

দুর্ব্যবহারে অভ্যস্ত মীরা শান্ত ভাবে বলে- কি বলবে?

কোনো ভূমিকা না করে আবিদ বলতে থাকে-

-তোদের এ বাসা থেকে চলে যেতে হবে, আর থাকা চলবে না।

হতভম্ব হয়ে যায় মীরা, ভুল শুনছে!

-কি বললাম শুনেছিস? জিনিস পত্র যা নিবি গুছাতে শুরু কর, আমি বেশী সময় দেবো না।

মীরা অস্থির হয়ে বলে-  কিন্তু কেন? কোথায় যাবো?

-কোনো কৈফিয়ত দেবো না, আমি বলেছি তাই যাবি, তোদের থাকার ব্যবস্থা করেছি, আর কিছু জানার দরকার নেই তোর।

-রিনির পরীক্ষা চলছে, এখন কি করে-

অসহিষ্ণু আবিদ বলে-  সেসব আমি জানি না, তোর মেয়ে তুই বুঝবি, কাল রাজুকে আসতে বলেছি, তোকে সাহায্য করবে, তোর যা মন চায় নিয়ে যা শুধু আমার ঘর খালি করে দে।

আর দ্বিতীয় কথা না বলে আবিদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।

স্তম্ভিত মীরা পাথর হয়ে দাঁড়িয়েই থাকলো, কি শুনলো, কেন- কিচ্ছু মাথায় ঢুকছে না। রিনি এসে ডাকতে, ওকে জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো মীরা।

সেরাতের কথা ওরা কোনো দিন ভুলবে না, একদিকে পরীক্ষা- অন্য দিকে কসাই বাবার নির্মম সিদ্ধান্ত- রিনি ঐ এক রাতেই কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হয়ে সাবালিকা হয়ে গেলো- মাকে জড়িয়ে ধরে স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো- নির্ঘুম রাত পার করলো মা- মেয়ে।

আবিদ আর বাসায় আসেনি, রাজু এসে জিনিসপত্র গোছগাছ করে নীরবে চলে গেলো, যাবার সময় মীরাকে বলে গেলো আবার আসবে, ওদেরকে নতুন জায়গায় উঠিয়ে দিয়ে তবেই শেষ হবে তার কাজ।

মীরা রাজুকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি, অপ্রীতিকর ব্যাপার নিয়ে ওর সাথে কি বলবে তবে রাজু অনেক কিছু জানে নিশ্চয়ই, আবিদের নির্দেশেই  ছেলেটা যে সব করছে, মীরা নিঃসন্দেহ ।

আবিদ চলে যাবার ছয়দিন পরে রাজু এসে মীরার হাতে একটা চাবি দিয়ে বললো- আপা, এটা আপনার নতুন ফ্ল্যাটের চাবি, আমি একটা পিকআপ এনেছি, মাল সামান তুলে ফেলি-

বলে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলো সে।

বিস্মিত হলো মীরা, নতুন ফ্ল্যাট!  কোথায়? কিভাবে কি হলো?

কোনো কিছু বুঝতে পারছে না মীরা, আর চুপ করে থাকা চলে না, আবিদকে আর পাবে কোথায় সেই যে চলে গেছে আর আসেইনি বাসায়, অগত্যা মরিয়া হয়ে রাজুকেই জিজ্ঞেস করলো মীরা।

-রাজু তোমার সাহেব কোথায় জানো?

নত মুখে মলিন সুরে বলে রাজু-  না আপা, আমি জানিনা, রোজ অফিসে আসেন, কাজ শেষ করে চলে যান, আপনাদের যা দরকার, সব করার দায়িত্ব দিয়েছেন আমাকে, কারো সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করতে মানা করে দিয়েছেন।

-ফ্ল্যাটটা কোথায়? কার ফ্ল্যাট?

-মীরপুর বারো নম্বরে, চারতলা বিল্ডিংয়ে দোতলায় আপনাদের ফ্ল্যাট, কার সেটা জানিনা, আমাকে আজকে চাবিটা দিয়ে ঠিকানা বলে দিলেন, আমি ফ্ল্যাটের ভিতরে যাইনি।

আর কিছু জানার নেই, জিনিসের মধ্যে শুধু নিজেদের কাপড়, রিনির বই, দরকারি কিছু টুকিটাকি এই নিলো, বাবার দেওয়া গয়না ছাড়া আবিদের কিছু ছুয়েও দেখলো না, যদিও সে বলেছিলো যা মন চায় নিতে কিন্তু মীরার প্রবৃত্তি হয়নি নেওয়ার, তবে সবটা না বুঝলেও এটা ঠিকই বুঝলো- আবিদের সংসারে ওর আর ফিরে আসা হবে না।

রাজু কম জিনিস দেখে আশ্চর্য হয়ে বললো-

-আপা আর কিছু নেবেন না? সাহেব কিন্তু বলে দিয়েছিলেন আসবাব যা লাগে নিয়ে যেতে, ফ্রিজ টিভি সব, আমি তো সেই জন্যই পিকআপ ভ্যান নিয়ে এসেছি, লোকও এনেছি খাট আলমারি খুলে গাড়িতে তোলার জন্য।

-কিছু নেওয়ার দরকার নেই ভাই, তুমি গাড়ি বিদায় করে একটা ট্যাক্সি নিয়ে এসো।

লুকোচুরি করে কি হবে, রাজু তো বোকা নয়, আর আবিদ যখন ওর ওপর ভরসা করেছে, বুঝেই করেছে।

যাওয়ার সময় বুয়া বার্বুচির বোবা চাহনি দেখে খারাপ লাগলেও শুধু এটুকুই বললো-  সাহেব না আসা পযর্ন্ত সাবধানে থেকো, দরজা বন্ধ রেখো- আবিদকে চিনতে ওদেরও বাকি নেই।

কতদিনের সংসার- সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়েছিলো, কত শৌখিন শখের জিনিস- সব ফেলে কোন অনিশ্চিতের পথে চলে যেতে হচ্ছে।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিনির হাত ধরে বেরিয়ে গেলো মীরা।

নতুন  ফ্ল্যাটের গার্ড যথেষ্ট সহযোগিতা করলো, মীরাকে প্রথম দিনই সালাম করে বলেছিলো- ম্যাডাম, আমাকে সাহেব বলে গেছেন, তিনি খুব ব্যস্ত, আপনাকে যেন সব বুঝিয়ে দেই, স্যার কয়দিন পরে আসবেন, এটা আপনার ফ্ল্যাট, কোনো দরকার লাগলে বলবেন, আমার নাম মতিন, আরো একজন আছে, জলিল- তার রাতে ডিউটি, ম্যানেজার সাহেব বাইরে গেছে, আসলে আপনার সাথে দেখা করবে।

ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখে এক বেডরুমের ছোট ফ্ল্যাট, বসার, খাবার জায়গাও ছোট, কিচেন বাথরুম নিয়ে ছোট্ট ফ্যামিলির উপযুক্ত। নতুন ফ্ল্যাট, খালি- কোনো ফার্নিচার নেই-  সবচেয়ে আশ্চর্য কথা হচ্ছে, এটা মীরার হলো কিভাবে।

রাজু কিন্তু মীরাকে ছেড়ে গেলো না, মীরার কাছে তো টাকা ছিলোই, যেটা খুব দরকার সেটাই কিনে রাজুকে নিয়ে মোটামুটি গুছিয়ে নিলো। মীরা একসময় জিজ্ঞেস করলো- কি ব্যাপার রাজু, তোমাকে তো অফিসে যেতে দেখি না, আমার কাছে আছো, ঠিক আছে আমার কোনো অসুবিধা নেই কিন্তু তোমার সাহেব তো রাগ করবে।

-আপা, আমি চাকরী ছেড়ে দিয়েছি।

-সেকি, কেন?

অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে তারপর আস্তে বললো,

-আমার আপার সাথে অন্যায় করেছে, ওনাকে আমি কখনো মাফ করবো না।

-কি হয়েছে রাজু !

-আমি আগে জানতে পারিনি, ভেবেছিলাম মামুলী রাগ করে আপনাকে আলাদা করে দিয়েছে,

সাহেব-  সাহেব আর একটা বিয়ে করেছে আপা।

আবিদ আর দেখাই করেনি মীরার সাথে, একজন লোক মারফত ফ্ল্যাটের দলিল ও ডিভোর্স এর কাগজ পাঠিয়ে দিয়ে স্ত্রী সন্তানের প্রতি কর্তব্য পালন করে সরে গেছে, এরপর কোনো খোঁজ রাখেনি এদের।

রাজুকে ছাড়েনি মীরা, বলেছে-  আমার ভাই থাকলে কি এই অবস্থায় চলে যেতে পারতো?

রাজুও থেকে গেছে।

পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির ডিপোজিট টাকা এবং আবিদের দেয়া ফ্ল্যাটটি সম্বল করে মীরা মেয়েকে নিয়ে জীবন সংগ্রাম শুরু করলো- এই দুঃসময়ে একমাত্র রাজু ছিলো ওর বল ভরসা।

এই ফ্ল্যাটটাও মীরা ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু রূপ যৌবন তার বড় শত্রু- অভিভাবকহীন একা অসহায় নারী ছোট একটা মেয়েকে নিয়ে কোথায় ঘুরবে? কে দেবে নিরাপত্তা? তার যে কোথাও কেউ নেই।

অল্প শোকে কাতর- অধিক শোকে পাথর- মীরা তার জীবন থেকে আবিদকে মুছে ফেললো।।

মীরা- দাম্পত্য জীবনে পরাজিত একটি নারী। স্বামীর অবহেলিত, অত্যাচারিত একজন রমণী-  কিন্তু হার মেনে নেয়নি- বাচ্চা একটি মেয়েকে অবলম্বন করে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

স্বামীর অন্যায় অবিচারের কোনো প্রতিবাদ করেনি , আইনের সাহায্য নিলে হয়তো উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ সে পেতো- কিন্তু তার রুচি হয়নি, যে মানুষটা তার রইলো না, তার টাকা বা সম্পদ পাওয়ার মানসিকতা নেই- এছাড়াও, মামলা করার ঝামেলা অনেক, মীরা কোনো ভাবেই সামলাতে পারতো না, অবশ্য সেই উৎসাহ ও ইচ্ছাও তার ছিলো না।

মীরা একটা বাচ্চাদের স্কুলে চাকরী যোগাড় করলো, সব মিলিয়ে ওদের সংসার ভালোই চলতে লাগলো। মীরার একমাত্র ধ্যান- সাধনা, রিনিকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা- বাপের কোনো প্রভাব বা ছায়াও যেন ওর ওপর না পড়ে, সুশিক্ষিতা হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে যেন রিনি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে- এটাই মীরার জীবনের লক্ষ্য, তার লাঞ্চিত, বঞ্চিত জীবনের একমাত্র সান্ত্বনা রিনি- অসম্ভব বুদ্ধিমতী, সংবেদনশীল, দরদী একটি মেয়ে রিনি।

মীরা স্বামীর চালচলনে বুঝতে পেরেছিলো যে তার সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না, তবু চেষ্টা করেছিলো এবং এই ভাঙন যখন অবশম্ভাবী হলো তখন নিজেকে শক্ত করে প্রস্তুত হয়ে গেলো নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে-  নিশ্চয়ই সে প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করতে পারতো, এরমধ্যে রাজু এসে পাশে দাঁড়াতে অনেক সহজ হলো সব কিছু।

রাজু একটা ফ্ল্যাটে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত গার্ডের চাকরী যোগাড় করে নিলো, মতিনই সহযোগিতা করলো-   মীরা চায়নি রাজু চাকরী করুক, একটা মানুষকে ভরণপোষণের সামর্থ্য তার আছে, বিশেষ সে যদি হয় উপকারী নিঃস্বার্থ একজন শুভাকাঙ্খী, কিন্তু রাজু জোর করেই কাজ নিয়ে নিলো, মীরাকে বুঝালো- আপা আপনি আমাকে যে মায়া করেন তা আমার অতি আপনজনও করে নাই, তারপর আপনি আশ্রয়ও দিলেন, মেসের ঐ অন্ধকার খুপরি ঘরে কয়েকজনের সাথে থাকতে বড় কষ্ট হোতো, আমি কিছু না করে শুধু বসে খেলে বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাবো।

ছেলেটা মাধ্যমিক পাশ, পড়াশোনা করার সুযোগ পায়নি, তার মুখে বিবেকের কথা, মীরা অভিভূত হয়ে যায়।

আর আপত্তি করেনি- অনেক সুবিধা হয়েছে রাজু থাকাতে, রিনিকে নিয়ে কোনো চিন্তাই করতে হয় না, স্কুল থেকে আনা নেওয়া, সন্ধ্যায় রিনির সাথে পড়তে বসা- মীরা, রাজুকে বই কিনে দিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক দেবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সে- ডিউটিতে যাবার আগে রাজু রান্নাও সেরে রাখে-  মোটকথা মীরার চাপ কিছু ব্যথা ব্যর্থতা ছাড়া আর কোনো চিন্তা নেই- আর রিনি তো রাজু মামা বলতে অজ্ঞান।

রাতে পড়া শেষ করে খাওয়া সেরে- মীরা লেসন প্ল্যান করে বা অন্য কোনো কাজ করে, আর রাজু রিনিকে মজার সব গল্প শোনায়, রাজু বসার ঘরে শোয়, ছোট একটা চৌকি কিনে দিয়েছে মীরা, সোফা নয়, বেতের মোড়া রেখেছে দুটো আর ছোট একটা পড়ার টেবিল, যেখানে রাজু ও রিনির বই থাকে, ওরা মাটিতে মাদুর বিছিয়ে পড়ে- তো, রিনি যতক্ষণ ঘুম না আসে, বসে বসে গল্প শোনে।

মীরার কষ্টের সীমা নেই, রিনির মনেও অনেক ক্ষোভ তথাপি ওদের জীবনে দম আটকানো ভীতি আতঙ্ক নেই, পরিবেশ দূষিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, নিশ্চিন্তে যে যার কাজ করে যায়, আর রাজুতো নিজের পরিবারই ভাবে এদেরকে।

একটা মানুষের কারণে সংসারের সমস্ত সুখ শান্তি নষ্ট হয়ে গেছিলো, এখন সেই মানুষটা না থাকার কারণেই শান্তির আবহে মীরাদের জীবন কেটে যাচ্ছে। দাম্পত্য জীবনে মীরা হাসতে ভুলে গেছিলো, রিনিও ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতো-  কিন্তু ব্যথা বেদনা সত্ত্বেও ওরা এখন নির্মল হাসি হাসতে পারে, রাজুর রসিকতা উপভোগ করে-  হাসেও।

রিনিও মজার মজার জোকস শোনায়, দিন কারো জন্য থেমে থাকে না, জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ না থাকাতে ওদের ওপর যে মানসিক চাপটা ছিলো, এখন সেটা থেকে মুক্তি পেয়েছে ওরা।

ব্যাঙ্কে যে টাকাটা ডিপোজিট করেছিলো মীরা, তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এই বছরেই। মীরা ঠিক করলো, এই ফ্ল্যাটটা বিক্রি করে ব্যাঙ্কের টাকার সাথে যোগ করে নতুন একটা ফ্ল্যাট কিনবে।

বতর্মান ফ্ল্যাটটা খুব ছোট-  এতদিন মেয়ে ছোট ছিলো, হয়ে যেতো, এখন রিনি বড় হয়েছে, একটা আলাদা ঘর দরকার ওর।

ফ্ল্যাট কেনার পর খুব বেশী টাকা হয়তো থাকবে না , তবে যাই থাকুক- সেটা আবার ডিপোজিট করবে আর তার চাকরী তো আছেই, এক রকম করে চলেই যাবে।

রাজুটা কষ্ট করে অল্প পরিসরে থাকে-  সে বলে না কিছু বরং ভালো আছে, খুশী আছে সেটা তার চেহারা দেখলেই বোঝা যায়-  কিন্তু মীরার একটা বিবেচনা আছে তো, অনেক করেছে ছেলেটা তাদের জন্য, অসময়ে ছেড়ে চলে যায়নি- অকৃতজ্ঞ নয় মীরা, মনে মনে স্থির করে আজ রিনিকে বলবে কিভাবে কি করবে।

রিনি মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে- কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিই এদের দমিয়ে রাখতে পারেনি- অসম্ভবকে অনায়াসে সম্ভব করে জয় করে নিয়েছে জীবনের কঠিন সময়কে-  রাজুও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে, ছেলেটার মানিয়ে চলার শক্তি, ক্ষমতাও কম নয়- সে প্রমাণ করেছে যে মানুষ তার সৎ, সুন্দর ইচ্ছা সহজেই পূরণ করতে পারে।

আবিদের কোনো খবর জানা নেই, জানার আগ্রহও নেই- সেতো স্বেচ্ছায় সরে গেছে সুতরাং কেউ কারো নয়।

সেদিন রিনি কলেজ থেকে ফিরতে, খাওয়া সেরে বিশ্রাম করছিলো- রাজু কাজ থেকে ফেরেনি তখনও, মীরা এসে বসলো মেয়ের পাশে, কিছু অন্য কথার শেষে মীরা যা বলতে চাইছিলো সেই প্রসঙ্গে চলে এলো।

মায়ের পরিকল্পনা শুনে রিনি একটু চুপ করে থেকে শান্ত সুরে বললো-

-মা, আমার বা মামুর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, বাড়তি ঘরের প্রয়োজন নেই, নতুন ফ্ল্যাট কেনার চিন্তা আপাতত বাদ দাও- তুমি একদম ভেবো না আমার পড়াশোনা শেষ হলে কোথাও নিশ্চয়ই একটা চাকরী যোগাড় করতে পারবো, তোমাকে আর কষ্ট করতে দেবো না।

রিনির কথায় মীরার চোখে পানি এসে পড়ে, হাসার চেষ্টা করে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে-

-চাকরী করবি কেনরে পাগলী? ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দেবো তোর, শ্বশুরবাড়ি যাবি- সংসার করবি- সন্তানের মা হবি-আমার যে তোকে নিয়ে কত সাধ।

রিনির মুখ সাথে সাথে কঠিন হয়ে গেলো-

-মা, স্বপ্নেও আমার বিয়ের কথা ভেবো না, সব মানুষ সমান নয় জানি, একজনকে দিয়ে দশজনকে বিচার করতে যাওয়াও ভুল, আমার জীবনে যে ব্যতিক্রম, ভালো কেউ আসবে তার নিশ্চয়তা কি? তাছাড়া এখনই ওসব নিয়ে ভাবছি না- আমাকে অনেক দূর যেতে হবে, তুমিই সেই স্বপ্ন আমাকে দেখিয়েছো, নিজেকেও আমি সেভাবেই প্রস্তুত করছি।

বিষাদের সুর মীরার কন্ঠে-

-মাগো, বিয়ে করলে তোর স্বপ্ন সফল হবে না, ভাবছিস কেন? তোর জীবনে এমন কেউই আসবে যে তোর স্বপ্ন সফল হতে সাহায্য করবে।

-না মা কারো সাহায্যে আমি কিছু করতে চাই না , আমি নিজের যোগ্যতায়, চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হবো, শুধু তুমি আমার পাশে থাকবে- আর কেউ নয়, কেউ নয়।

মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলে মীরা, মনে মনে শিউরে উঠেছে, পুরুষের প্রতি রিনির প্রবল ঘৃণা- বিতৃষ্ণা অনুভব করে। রিনির মন থেকে অত্যাচারিত হওয়ার সেসব দিনের ভয়াবহ স্মৃতি কিভাবে মুছে ফেলবে মীরা।

ইতিমধ্যে রাজু চলে এলো, ঘরে ঢুকে ওদেরকে ঐ অবস্থায় দেখে হকচকিয়ে গেলো, তারপর সামলে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে শুকনো স্বরে জিজ্ঞেস করলো

-কি হয়েছে?

রাজু শুনলো সব তারপর হাসিমুখে বললো-

-মামনি, তুমি এত বুদ্ধিমতি মেয়ে, মা যাতে কষ্ট না পান, সেটা করবে না? বলা মাত্রই ফ্ল্যাট কেনা হচ্ছে না, পছন্দ- অপছন্দ, দরদামের ব্যাপার আছে না? আর তোমার বিয়েও হুট করে হচ্ছে না, দেখেশুনে তবেই না আমাদের রাজকন্যার জন্য, রাজপুত্র নিয়ে আসবো- মা বলছেন যখন, তখন সবাই মিলে চলো ফ্ল্যাট দেখেই আসি, কি বলেন আপা? আর শোনো, তোমাদের চোখে পানি দেখতে আমার কিন্তু ভালো লাগে না।

চোখে পানি নিয়ে হেসে উঠলো মীরা, বললো-

-এই জন্যই তো আমার ভাইটাকে এত পছন্দ করি- সব পরিস্থিতিতেই কি সুন্দর মাথা ঠান্ডা রাখে।

-হ্যাঁ, আর তুমি? কথায় কথায় কেঁদে ফেলো, এমন ছিঁচ কাঁদুনে মা হয়েছো না তুমি ?

বলেই হেসে ফেললো রিনি। পরিবেশ নিমিষেই হালকা হয়ে গেলো।

রিনি রাজী হলো ফ্ল্যাট কিনতে, কিন্তু দেখতে যাওয়ার আগে শর্ত দিলো দাম বেশী হলে কিনবে না। সবাই মিলে গেলো দেখতে।

দেখা গেলো পছন্দসই ফ্ল্যাটের দাম অনেক বেশী, ওদের বাজেট কম, অল্প দামের যেগুলো , সেটা আবার পছন্দ হয় না।

তিন চার বেডরুমের এ্যাপার্টমেন্টও দেখা হলো, সেগুলোর আরো আকাশ ছোঁয়া মূল্য।

মীরার মনে কষ্টের তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। আজ যদি আবিদের স্নেহচ্ছায়া ওদের মাথার ওপর থাকতো তাহলে কোনো চিন্তা ছিলো না- একজন নারীর জীবনে মা বাবার পরে স্বামী হচ্ছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রিয়- আপনজন- যে কিনা তার পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দেয়- ভালোবাসে, বিশ্বস্ত- সততার সাথে সমস্ত দায়িত্ব পালন করে- এর ব্যতিক্রম হলে সংসারজীবনে যে ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটে যায়- সেই ক্ষতি আর কোনো মতেই পূরণ হয় না।

বিনাদোষে মীরার জীবনটা একেবারে বরবাদ হয়ে গেলো, বিশৃঙ্খল এবং হ্নদয়হীন স্বামীর অমানবিক আচরণের মূল্য দিতে হচ্ছে সন্তান সহ মীরাকে-

অতি বড় সুন্দরী না পায় বর- অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর।

শেষে বনানীতে একটা ফ্ল্যাট ওদের খুবই পছন্দ হলো কিন্তু অত্যাধিক দাম চাইছে, তবু ওরা ভাবলো, মালিককে বলে যদি দামটা কমানো যায়। এমন বিলাসবহুল পছন্দের ফ্ল্যাট কখনো কমে পাওয়া যায় না তথাপি ওরা অনেক আশা নিয়ে গেলো, অনেক সময় অসম্ভব ও সম্ভব হয়-  কিন্তু যেয়ে নিদারুণ হতাশ হতে হলো-  ফ্ল্যাটটা বিক্রি হয়ে গেছে।

মায়ের সেই আশাভঙ্গের বেদনাময় মলিন চেহারা জীবনেও ভুলবে না রিনি-   নতুন করে বাপের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ও ঘৃণা ওর মনকে আরো বিষিয়ে তুললো।

মাত্র গত রাতেই এই ফ্ল্যাটটা কেনার ব্যাপারে আলোচনায় বসেছিলো, মীরা বললো যে কোনো ডিপোজিট করার আর দরকার নেই, পুরো টাকাটা দিয়েই ফ্ল্যাট কেনা হোক, পরে দেখা যাবে, কি করে চলবে, বেশ কিছুক্ষণ উশখুশ করে শেষে রাজু বললো-

-আপা আমার একটা কথা রাখবেন?

-কি কথা রাজু!

-দেশে আমার কিছু জমি আছে, আমি বিক্রি করবো, এই ফ্ল্যাট হাতছাড়া করা যাবে না।

মীরা, রিনি স্তম্ভিত হয়ে রাজুর দিকে চেয়ে রইলো। এই নিঃস্বার্থ পরোপকারী মানুষটা এত উদার!

কেউ কোনো কথাই বলতে পারছে না তারপর মীরা ধীর কোমল স্বরে বললো-

-রাজু তুমি যে বলেছো এতেই আমি খুব খুশী হয়েছি, কিন্তু তা হয় না, তোমার জমি বেচা টাকা আমি নিতে পারবো না।

-আপনাদের জন্য কিছু করতে না পারলে আমি শান্তি পাবো না।

-লক্ষ্মী ভাই, তুমি আমাদের জন্য যথেষ্ট করছো, এ টাকা তুমি আমাকে নিতে বোলো না।

-তাহলে তো আমাকেও বলতে হয়, আমি আপনার এখানে থাকছি খাচ্ছি,  উচিত হচ্ছে না।

রিনি এতক্ষণ কিছু বলেনি, হেসে বললো-

-বারে তুমি আমার মামু না? আমাদের কাছে থাকবে নাতো কোথায় থাকবে?

-আমি যদি তোমার মামুই হই, তাহলে টাকা নিতে আপা আপত্তি করছেন কেন?

– অবুঝ হয়ো না ভাই, ঠিক আছে, তুমি যে দিতে চাইছো তোমার বাবা আছেন, উনি তো রাজী হবেন না।

-আপা এই জমির মালিক আমার মা, উনি নানার কাছে থেকে পেয়েছিলেন, মারা যাবার আগে দলিল আমাকে দিয়ে যান, বাবা কিছুই জানেন না,

-তবুও, আমার নিতে ভালো লাগবে না, তোমার ও তো ভবিষ্যত আছে।

-আপা আমার ভবিষ্যত রিনি মামনি, ও আমাকে দেখবে না?

-মামু তুমি না বললেও, আমি কখনো তোমাকে বাদ দিয়ে কিছু চিন্তা করিনি-  করবোও না।

যাই হোক, শেষে এই ঠিক হলো যে, ফ্ল্যাটের দাম ঠিক হোক  তারপর প্রয়োজন হলে রাজু জমি বিক্রি করার ব্যবস্থা করবে।

এখন ফ্ল্যাটটা বিক্রি হয়ে যাওয়াতে সব গোলমাল হয়ে গেলো-  ভারাক্রান্ত মনে ওরা বাসায় ফিরে এলো।

রাজু হাল ছাড়লো না, মীরাকে উৎসাহ দিয়ে হতাশার অতল থেকে টেনে রাখলো, নিজেই খোঁজখবর করতে লাগলো ফ্ল্যাটের। প্রথম প্রথম মন খারাপ করে থাকলেও রাজুর সক্রিয় প্রভাবে মীরা সহজ হয়ে গেলো আর রিনির তো মামুর ওপর অগাধ আস্থা।

কয়েক দিন পরে রাজু ডিউটি সেরে বাসায় ফিরে জানালো যে দুতিনটা ফ্ল্যাটের খবর পেয়েছে, দামও মোটামুটি আয়ত্বের মধ্যেই, এখন সময় করে দেখে আসা যায়, তবে তার আগে ওকে একবার নানার গ্রামে যেতে হবে- জমি বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্য, শুভ কাজে দেরী করতে নেই, বিক্রির টাকা মীরার ব্যাঙ্কে রেখে দেবে তারপর ফ্ল্যাট পছন্দ হয়ে গেলে কিনে ফেলা যাবে, রাজী হলো মীরা।

কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামে যাবার জন্য প্রস্তুত হলো রাজু কিন্তু সেই সুযোগ সে আর পেলো না।

দেশে যাবার আগের দিন রাজু কাজ থেকে ফিরে আসার সময় বাজারে গেলো আম কিনতে, রিনি খুব ভালোবাসে আম খেতে, প্রায়ই সে এটা সেটা কিনে আনে, মানা করলেও শোনে না- ভাবলো কয়েক দিন থাকবে না, রিনির জন্য আম কিনে নিয়ে যাই- বাজার বেশী দুরে নয়, ভালো হাড়িভাঙা আমই পাওয়া গেলো, কিনে আসার পথে দ্রুত চলমান এক হোন্ডা মারলো এক ধাক্কা, পথের এক পাশ দিয়েই হাটছিলো রাজু, বেপরোয়া চালক কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাজুকে ধাক্কা মেরেই তীর বেগে অদৃশ্য হয়ে গেলো।

টাল সামলাতে না পেরে মাঝ রাস্তায় ছিটকে পড়তেই বিপরীত দিক থেকে একটা বাস এসে ওকে চাপা দিয়েই চলে গেলো-  আশেপাশের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই, চোখের পলকে এই দুর্ঘটনা ঘটে গেলো।

হতভাগ্য রাজুর প্রাণবায়ূ সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে গেলো- হাসপাতালে নেওয়া হলেও কেউ কিছুই করতে পারলো না।

রাজুর লাশের সামনে পাথরের মূর্তির মত বসে আছে মীরা- রিনি, অবিশ্বাস্য চোখে দেখছে প্রাণবন্ত একটি ছেলের নিথর শরীর। এলাকার সবারই প্রিয় ছিলো হাসিখুশি রাজু- খবর শুনে অনেকেই এলো, তারাই রাজুর দাফনের ব্যবস্থা করলো, মীরার কাছে রাজুর বাবার ফোন নাম্বার ছিলো, তাকে খবর দিতে সে সাফ বলে দিলো- ও ছেলে অনেক আগেই আমার কাছে মৃত।

ফ্ল্যাটের অন্যান্য পরিবার মীরাদের যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করলো, রান্না করে এনে জোর করে খাওয়ালো, এমনকি পাশের ফ্ল্যাটের দুজন মহিলা রাতেও ওদের কাছে থাকলো- একলা রাখলো না, মনুষ্যত্ব সবারই আছে।

রাজুর এই অপঘাতে মৃত্যু মা মেয়ের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলো- রাজু যে ওদের কতখানি ছিলো প্রতিটা মুহূর্তে বুঝতে পারছে- আপনজন হারানোর বিয়োগ ব্যথায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকলো-  সময় থেমে থাকে না, কারো জন্য কিছু আটকেও থাকে না- অনেক কষ্টে নিজেদের শক্ত সংযত করে মীরা- রিনি দৈনন্দিন জীবন যাপন করতে লাগলো।

শোকটা একটু সহনশীল হতে মীরা একদিন রাজুর ব্যাগ খুললো- চৌকি বিছানা যা ছিলো সব দান করে দেওয়া হয়েছে, এই ব্যাগটাই খুলে দেখা হয়নি, কিছু কাপড় জামা ও অন্যান্য টুকিটাকি জিনিসের সাথে দুটো বড় খাম পেলো মীরা, একটার মধ্যে জমির দলিল, অন্যটায় ব্যাঙ্কের চেক ও জমার বই-  একটু দেখেই মীরা পাশে বসা রিনির দিকে ব্যাঙ্কের খামটা এগিয়ে দিলো, রিনির মুখ যেন পাথরে গড়া- মামুর জন্য এত কেঁদেছে, এখন তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে।

রাজুর বেতনের প্রায় পুরো  টাকাই জমেছে এবং নমিনি করেছে রিনিকে- প্রিয়জন হারানোর বেদনা নতুন করে দুজনে অনুভব করে  স্তব্ধ পাথর হয়ে বসে রইলো।

মতিনের সাহায্যে মীরা রাজুর গ্রামের জমি বিক্রি করিয়ে, এতিমখানায় দান করে দিলো, রক্তের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও যে মানুষ ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে ফেলতে পারে- পর ও যে অতি কাছের আপনজনে পরিণত হতে পারে- রাজু নামে স্বল্প শিক্ষিত ছেলেটি প্রমাণ করে দিলো।

পৃথিবীতে শুধু আবিদের মত নিষ্ঠুর অমানবিক মানুষই নেই-রাজুর মত হ্নদয়বান সংবেদনশীল মহৎ প্রাণও আছে-  তাই তো পৃথিবীটা এত সুন্দর মীরা আর রিনির জীবনে ক্ষনিকের জন্য এসে প্রচন্ড ভালোবাসা দিয়ে দুর গগনে তারা হয়ে রয়ে গেলো, রেখে গেলো অসাধারণ সব অমূল্য স্মৃতি যা ওরা কখনো ভুলবে না- হ্নদয়ের মণিকোঠায় সযত্নে তোলা থাকবে।

চলবে-

Scroll to Top