৭১ এর সেই রক্তঝরা রণাঙ্গনের দিনগুলো
স্মৃতির কিনারা ঘেষে জেগে উঠে অনুক্ষণ।
৪৭ এ পাকিস্তানের সৃষ্টিলগ্ন থেকে-
পাক-বর্বরদের শাসন, শোষণ, অত্যাচারে,
সবুজ-শ্যামল বাংলা হয়েছে ক্ষতবিক্ষত।
হানাদার বাহিনী হরণ করতে চেয়েছে
মাতৃভাষা বাংলাকে,
পঙ্গু করে ফেলতে চেয়েছে
বাঙালি জাতীয়তাকে,
উপরে ফেরতে চেয়েছে
সাহিত্য-সংস্কৃতি মর্যাদাকে।
কিন্তু পারে নি বাঙালির কন্ঠরোধ করতে,
ক্ষুব্ধ জনতা জেগে উঠে স্বাধিকার দাবিতে।
বাংলাকে মাতৃভাষা করার দাবিতে
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই স্লোগান মিছিলে,
উত্তাল হয় সমগ্র দেশ জনতা।
অতর্কিতে মিলিটারীরা গুলি চালায়
প্রকান্ড মিছিলে।
সালাম, বরকত, রফিকের মতো সহস্র তাজা প্রাণের
শোণিত ধারা বয়ে যায় বাংলার মাটিতে।
পৈশাচিক, বর্বরতা এখানেই নিঃশেষ হয়ে যায় নি,
মার্চের কালো রাতে রচিত হয় নির্মম কাহিনী।
২৫ শে মার্চ কালোরাতে
পশুদের অতর্কিত আক্রমণে,
স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বাংলা।
সেই ভয়াল কালো রাতে
এ দেশের উপর হত্যালীলা
চালিয়েছে হায়েনারা।
অনেক মায়ের কোল হয়েছে শূন্য
অনেক পিতা হারিয়েছে পুত্র,
ভাইয়ের জন্য বোনের আহাজারি
সম্ভ্রম হারিয়েছে অনেক বীরাঙ্গনা নারী।
পৈশাচিক হত্যালীলায়, নারকীয় অত্যাচারে
গুলির আঘাতে, কামানের ঝংকারে
রক্তস্রোত বয়ে যায় বাংলার বুকে
সমস্ত দেশ পরিণত হয় এক ধ্বংসস্তুপে।
রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দীর্ঘ ৯ মাস চলতে থাকে
বর্বরতার শেষ চিহ্নটুকু রেখে যাওয়া বাকি ছিল,
বুদ্ধিজীবিদেরও বলি হতে হয় পশুদের কোপানলে।
৭১ এর ডিসেম্বরে সহস্র প্রাণের বিনিময়ে
ফুটেছে রক্তগাঁথা বিজয়ের ফুল।
লাল-সবুজের পতাকা উড়েছে স্বাধীন আকাশে,
জন্ম নিয়েছে স্বাধীন দেশ।
শহীদের পবিত্র রক্তে উর্বরা পেয়েছে
বাংলার মাটি, আমরা পেয়েছি বিজয়,
বিজয় এসেছে সারা বাংলাদেশে।
লেখাঃ সাবরিনা তাহসিন